Tuesday, November 15, 2016

গত শিক্ষা বছরে দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ ফেল

রাইসুল ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মনমথপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মনমথপুর ইবিএসই আলিম মাদ্রাসায় সব মিলে শিক্ষক আছেন ২৪জন। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারী আছে ৫জন। এসব শিক্ষক ও কর্মচারী প্রতিমাসে বেতন ভাতা উত্তেলন করেন ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৭টাকা। মাদ্রাসাটির ছাত্র উপস্থিতি গড়ে প্রতিদিন ৫০জন। গত শিক্ষা বছরে মাদ্রাসাটিতে দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ১১জন। ফল বের হলে দেখা যায় মাদ্রাসাটি শতভাগ ফেলের আওতাভুক্ত হয়েছে। মাদ্রাসার এ বেহাল অবস্থার জন্য বর্তমান গভর্নিংবডি অধ্যক্ষকে দায়ি করেন। 
গত মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসাটিতে সরজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৯৭৮সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ২নং মনমথপুর ইউনিয়নে ২ একর ৬ শতক জমির উপর মনমথপুর ইবিএসই আলিম মাদ্রাসা স্থাপিত হয়। ৬ বছর পরে ১৯৮৪ খ্রীষ্টাব্দে এটি দাখিল পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০০০ সালের মে মাসে আলিম শ্রেনী পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। মাদ্রাসায় সব মিলে কক্ষ আছে ১৬টি। শ্রেণি কক্ষ আছে ১২টি। গড়ে প্রতি কক্ষে ৫ জনেরও কম শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আফসার আলী জানান, তিনি দুই মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যক্ষ মোঃ মহসিন আলীর কারনে মাদ্রাসাটিকে বেহাল অবস্থা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বলেন, মাদ্রাসায় নিয়মিত জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়না। দায়িত্ব পালনে অধ্যক্ষের অনীহা ও উদাসীনতা, গভর্নিংবডির আদেশ অমান্য করা, সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে রুঢ় ও ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করা এবং শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগ করেন তিনি। সভাপতি আরো বলেন, গত ৭ নভেম্বর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভায় অধ্যক্ষ মোঃ মহসিন আলীকে সামরিকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তের চিঠি গ্রহণ করেননি। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর অধ্যক্ষকে কারনদর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। গত ৩ নভেম্বর তিনি তার জবাব দিয়েছেন। এব্যপারে গভর্নিংবডির সদস্য ও দাতা সদস্য মোঃ মজিবর রহমান বলেন, অধ্যক্ষের গ্র“পিংয়ের কারনে মাদ্রাসায় অচলাবস্থা চলছে। মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সবগুলো সত্য। তিনি অধিকাংশ দিন মাদ্রাসার বাইরে থাকেন। শরীরচর্চা শিক্ষক আজিজুল ইসলাম তার সঙ্গে থাকায় মাদ্রাসায় নিয়মিত পিটি ও জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়না। অধ্যক্ষের অনুপুস্থিত এর কারনে এখানে ঠিকভাবে লেখাপড়া হয় না। চলতি জেডিসি পরীক্ষায় ১৪জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী শাখায় ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫জন, ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দাখিল শ্রেনী পর্যন্ত (জেডিসি বাদ দিয়ে) ৩৪জন এবং আলিম শ্রেণিতে ৭জন উপস্থিত থাকার কথা আজ মঙ্গলবার এ প্রতিনিধিকে জানানো হয়। এব্যপারে অধ্যক্ষ মোঃ মহসিন আলী জানান, মাদ্রাসায় নিয়মিত জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। সভাপতি গভর্নিংবডির অন্যসব সদস্যদের নিয়ে তাকে মাদ্রাসা থেকে অপসারণ করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এব্যপারে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, মনমথপুর ইবিএসই আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তভার প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

0 facebook: