Sunday, April 30, 2017

এনজিওতে চাকুরী করতে গিয়ে হারিয়েছেন সংসার ॥ বেতন ভাতার জন্য ঘুরছে দ্বারে দ্বারে অসহায় এক নারী

এনজিওতে চাকুরী করতে গিয়ে হারিয়েছেন সংসার ॥ বেতন ভাতার জন্য ঘুরছে দ্বারে দ্বারে অসহায় এক নারী
মাসুদ রেজা শিশির ॥ রাজবাড়ী সদরের বিনোদপুর গ্রামের এক শিক্ষিত অসহায় নারী এনজিওতে চাকুরী করতে গিয়ে স্বামী সংসার হারিয়েছেন বর্তমানের ওই এনজিওতে মালিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দের জের ধরে বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন ওই নারী। বিনোদপুরের ওই নারী সাবেক মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা রতন বর্মন এর কন্যা শিখা রানী বর্মন। শিখা রানী বর্মন ২০০১ সালে রাজবাড়ীর সেগুনবাগীচায় কমিউনিটি লাইফ (সি.এল) নামক এনজিওতে যোগদান করেন এবং সেখানে শিখা রানী সুনামের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ সময় একই বছরের শেষ দিকে  কমিউনিটি লাইফ (সি.এল) নামক এনজিওটির  মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ শুরু হয় সেই দ্বন্দের জের ধরে এনজিওর কর্মী ছাটাই সহ বিভিন্ন অনিয়ম করে থাকে ওই এনজিওটি তবে শিখা বর্মন সেখানে নিষ্টার সাথে ২০০৪ সাল প্রর্যন্তু তার দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে গেছেন। এদিকে বিভিন্ন সময় নানা ভাবে তাকে বেতন ভাতা বয়েকা রেখে চলেছে শিখা বর্মনের হিসাব অনুযায়ী ওই এনজিওটিতে তিনি শুধু বেতন ভাতা বাবদই পাবেন ১লক্ষ ৩৫ হাজার টাাকা। একই সাথে শিখা বর্মন জানান ওই এনজিও মালিকদের জন্য আমার সংসার ভেঙ্গেছে তিনি বলেন আমি আমার সদ্য বিবাহিত স্বামীকে নিয়ে ওই এনজিও কর্মকর্তার অফিসে বেতন আনতে গিলে ওই এনজিও পরিচালক রবার্ট পালের স্ত্রী সুমিতা সাহা তার উপস্থিতিতে আমাকে নিয়ে আমার স্বামীর উপস্থিতিতে অশ্লীল কথাবার্তা বলে যে কারনে পরবর্তীতে আমার স্বামী আমাকে সংসার করেতে দেয় নি এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি সংসার হারিয়ে আজ অসহায় হয়ে পরেছি। শিক্ষা জানান প্রথম পরিচালক তাকে ২০০১ সালে নিয়োগ পত্র প্রদান করেন পরবর্তীতে ২য় পরিচালক ২০০২ সালে তাকে আর একটি নিয়োগপত্র দেন তবে ওই দু পরিচালকের দ্বন্দের জেরে তার সংসার ভেঙ্গেছে বলে শিখা বলেন।  শিখা আরো জানান আমাকে কৌশলে প্রথম পরিচালক আমার নিকট থেকে যোগদান পত্র নিয়ে নিয়েছে,পরবর্তীতে ওই এনজিও র ২য় পরিচালক তাকে একটি যোগদানপত্র দিয়েছিল সেটিও কৌশলে ওই প্রথম পরিচালক সে যোগদান পত্রটিও নিয়ে নিয়েছে। শিখা বর্মন তার অসহাত্বের কথা জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তার আলোকে বিভিন্ন সময় শিখা আশ্স্ত হলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না তিনি। পাওনা টাকা  বুঝে পাওয়ার লক্ষ নিয়ে তিনি এগিয়ে চলছেন সেই সাথে পরিশ্রম করে জীবন জীবিকা চালিয়ে চলছেন শিখা। সম্প্রতি রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের নিকট শিখা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন যার মধ্যে তিনি বেতন ভাতা বাবদ ১লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা,বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য দায়ী করে ৫,লক্ষ টাকা ২য় পরিচালকের দেওয়া চাকুরীর যোগদানপত্র আত্বসাধ করার দায়ে ৩লক্ষ ও ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল প্রর্যন্তু বকেয়া বেতন ভাতা বাবদ ২লক্ষ টাকা দাবীসহ সর্বমোট ১১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা দাবী করেছেন। এরুপ এনজিওতে কাজ করতে গিয়ে শিখার মত আর কত নারীর সংসার ভাংবে নির্যাতিত এই শিখারা কোথায় গিয়ে দাড়াবে আর এর সুবিচারই বা কোথায় এরুপ হাজারো প্রশ্ন শিখার মনের মধ্যে ধুমরে ধুকে ধুকে মরছে। শিখা জেলা প্রশাসক,সদর ইউনও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান,পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সকল উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নিকট এ বিষয়টি সুষ্ঠ সমাধানের জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।


শেয়ার করুন

0 facebook: