Tuesday, May 15, 2018

পার্বতীপুরে বনভূমি দখল করে বাড়ী-ঘর নির্মান॥ বন উজাড়

কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা
পার্বতীপুরে বনভূমি দখল করে বাড়ী-ঘর নির্মান॥ বন উজাড় 

এম.এ. আলম বাবলু

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে বন বিভাগের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া রেঞ্জের বনভূমি দখল করে অবাধে নির্মিত হচ্ছে বাড়ী-ঘর, দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে উজার হচ্ছে বন।
জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বন বিভাগের মধ্যপাড়া রেঞ্জের ৬টি বিটে বন ভূমি রয়েছে ৬ হাজার ১শ, ৪২ একর। এর মধ্য বনায়ন রয়েছে ৩৫ একর ভূমিতে। বেদখল হয়ে যাওয়া ভূমির পরিমান ২৩শ ৫০ একর। বন বিভাগের ভূমি বেদখলের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। বন বিভাগের মধ্যপাড়া রেঞ্জের কুশদহ বিটে ১২শ একর জমির মধ্যে ১ হাজার একরই বেদখল হয়ে গেছে। উজার হয়ে গেছে এই বিটের বন। গাছ কেটে বিক্রি করে উজার করা হয়েছে এখানকার বন। আফতাবগঞ্জ বিটে ১২শ একরের মধ্যে ১ হাজার একরই বেদখল। মধ্যপাড়া বিটের জেল নং-১ নবাবগঞ্জে ভূমির পরিমান ২৮.৭৫। এর পুরোটাই বেদখল। গিলাঝুকিতে জেল নং-১৭ এর ৮শ ভূমির মধ্যে ৫শ ভূমিই বেদখল। রাখবেন্দ্রপুরে পতিত ভূমির পরিমান ১২.৩৮ একর। দক্ষিণ হরিরামপুরে ১৩২ এর মধ্যে ১২৭ একর বেদখল। খাগরাবন্দের ২৮৬ দাগে ২ একর বেদখল। ১৩৩৯ দাগে ৫ একর, ২২০৫/২২০৬/২২৫১ দাগের জমি জবর দখল করে বাড়ী ঘর নির্মান করে জমি চাষাবাদ করা হচ্ছে। মধ্যপাড়া মৌজার জেল নং-৯৬২/৯৬৪/৯৬৫ এবং ৪৫৫৭/৩৭৩০ ভূমি বেদখল হয়ে গেছে। এই ভূমিতে নির্মিত হয়েছে বাড়ী-ঘর, দোকান পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একই অবস্থা গুড়গুড়ি মধ্যপাড়া মৌজার। এই মৌজার জেল নং-৩৫০/১১৩০/১১৩২/১১৪৩/১১৫১/১১৬২ এর ভূমি বেদখলে রয়েছে। কিসমত মৌজার জেল নং-১৮২ দাগ নং-১ এর জমি এবং পাঁচপুকুরিয়া মৌজার জেল নং-১৩৮/৭৬৪/৭২১/৭৫৮/৮২৭/৮৪৩/৮৪৪/৮৬৪ এর ভূমি বেদখলে রয়েছে। যে পরিমান জায়গায় বন রয়েছে সেখান থেকেও গাছ কেটে বন উজার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বনের গাছ কেটে দুইশতাধিক লড বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এই লড বিক্রিতেও হয়েছে চরম অনিয়ম ও দূর্নীতি। সুকৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া রেঞ্জের মতো বন বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের দায়িত্বে রয়েছে একজন ফরেষ্টার। যার উদাসীনতার কারণে এখানে চলছে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি। আর বন ভূমির দখলের প্রতিযোগীতা। এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রনজিবুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বনভূমির সঠিক হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং অন্যান্য তথ্য প্রদানেও অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন।
দিনাজপুরের বন বিভাগের ডি এফ ও মোঃ আব্দুর রহমান এর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


শেয়ার করুন

0 facebook: