Monday, April 22, 2019

পার্বতীপুর পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত



জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ

পার্বতীপুর পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত

এম এ আলম বাবলু

প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুর পৌরসভার বিশেষ পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ ২৩ বছর পূর্বে শেষ হলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশনল অধিদপ্তর ও পৌরসভার মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির সুবিধা হতে বঞ্চিত রয়েছে।
জানা গেছে, প্রথমে ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে জিওবি তহবিল হতে পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ৮৭লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই বছর কাজটি সম্পূর্ন না হওয়ায় ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে আরও বরাদ্দ দেওয়ায় মোট বরাদ্দের পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজের মধ্যে ছিল পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ৮ কিঃমিঃ পাইপ লাইন স্থাপন, দুটি পরীক্ষামূলক নলকূপ, দুটি পাম্প হাউজ ও পাইপ লাইন মেরামত। সম্পূর্ন কাজটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বধায়নে সম্পন্ন হয়। এ জন্য তারা পৌরসভার নিকট প্রয়োজনীয় ম্যাপসহ এলাকার বিবরণ, দুটি গভীর নলকূপ বসানোর জন্য জায়গা এবং পাইপ বসানোর জন্য পৌর এলাকায় পাকা রাস্তা কাটার অনুমতি চায়। পৌরসভা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করার জন্য সরকারি নির্দেশিকা মোতাবেক একটি কমিটি গঠন করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই কমিটিকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
কিন্তু কার্যত কমিটি তদারকি ও পরামর্শ উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পাকা রাস্তা কেটে টি এন্ড টি (বিটিসিএল) আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়। রাস্তার ইট, বড় বড় বোল্ডার পাথর পৌরসভায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কোন কিছুতে তোয়াক্কা না করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের এই ধরনের স্বেচ্ছাচারীতামূলক কাজে পৌরসভা চিঠি দিলেও পৌরসভাকে উপেক্ষা করে কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে পৌরসভা চেয়ারম্যান গঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করে। গত ১৯৯৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র দেয়া হয়। এই পত্রে অনিয়ম ও ক্রটি পূর্ন কাজের দাবি করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে কোন সাড়া দেয়নি বরং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পানি সরবরাহ প্রকল্পটি পৌরসভার নিকট হস্তান্তরের ব্যাপারে নীতিমালা উপেক্ষা করে তৎপর হয়ে ওঠে। সুষ্টু তদন্ত না হলে পৌর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের দায়িত্বে বুঝে নেবে না বলে জানিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর পৌরবষার সাবেক চেয়ারম্যান আঃ ওহাব সরকার জানান, সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশিকা উপেক্ষা করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পটি কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সন্তুষ্ঠ বিনষ্ঠ করা হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের এ কার্যকলাপের কারনে পার্বতীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান গত ১৯৯৯ সালের ১৫ জুলাই রাজশাহী দুর্নীতি দমন বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন সুরাহা হয়নি। ফলে পানি সরবরাহের কাজ সম্পূর্ন বন্ধ আছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার টানা হেচড়ার কারণে বিশেষ পানি সরবরাহ প্রকল্পের বিশুদ্ধ পানির সুবিধা হতে ৫০ হাজার পৌরবাসী দুই যুগ ধরে বঞ্চিত।
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রোকৌশলী জনাব রবীন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পার্বতীপুর শহরে পানী সরবরাহের জন্য ১৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো হয়েছে এবং ৩টি গভীর নলকূপ বিদ্যুৎ সংযোগ সহ চালু রয়েছে। বাকি ৫টি গভীর নলকূপ অচল থাকায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয় নি। তিনি আরও জানান, ৩টি ওভার হেড ট্যাংক বসানো সহ ২০০০ বাড়ির সঙ্গে পানির লাইন সংযোগ দেওয়া দরকার। তবে আগামী জুলাই-বা আগস্টে পানী সরবরাহ ব্যবস্থা পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হবে। এব্যাপরে পৌর মেয়র এ জেড এম মেনহাজুল হক জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহযোগীতায় খুব শীঘ্রই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।  


শেয়ার করুন

0 facebook: