Monday, July 1, 2019

রাজশাহী পাউবো ঘেরাও নির্বাহী প্রকৌশলী অবরুদ্ধ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আপদকালীন কাজের বিপরীতে সম্পূর্ন টাকা পরিশোধের দাবিতে রাজশাহীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেছেন পাউবো ঠিকাদাররা। এসময় তারা রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকেও তার দফতরে তিনঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলে ঠিকাদাররা তাদের বিক্ষোভ বন্ধ করেন।   

দীর্ঘদিন ধরে কাজের বিল না পাওয়ায় সোমবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার সমিতি। পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপিও পেশ করেন তারা। স্মারকলিপিতে ঠিকাদাররা অবিলম্বে তাদের চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
ঠিকাদার নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে বারবার মৌখিকভাবে অবগত করা হলেও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলী কোনো প্রতিকার করেন নি। অথচ ঠিকাদাররা বন্যার সময় বিভিন্ন নদী ভাঙ্গনে আপ্রাণ চেষ্টা করে ভাঙ্গন ঠেকিয়ে দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষা করে। ভাঙ্গনের সময় পাউবো’র উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ভাঙ্গনের কাজ তদারকি করেন। বন্যার সময় উচ্চমূল্যে বালু ক্রয় করতে হয়। অনেক সময় বন্যার কারনে বালু পাওয়া দুঃষ্কর হয়ে যায়। বৃষ্টি ও বন্যার কারনে শ্রমিকদের উচ্চ মূল্যে কাজ করাতে হয়। এতো প্রতিকুল অবস্থায় দিন রাত পরিশ্রম করেও সময়মত বিল পাওয়া যায় না।  কাজের এক বছর পরেও বিল সম্পূর্ন পরিশোধ করা হয় না। শুধু এখানেই থেমে নেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে অর্থ বরাদ্দ না পরিশোধ করে বিভিন্ন টাস্ক ফোর্সের নামে হয়রানি করা হয়।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মাহফুজুুল আলম লোটন বলেন, এক বছর আগে কাজ সম্পন্ন হলেও রাজশাহী অঞ্চলের ঠিকাদাররা তাদের পাওনা বুঝে পায় নি। অন্তত কয়েক কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এ অবস্থায় তারা আগামীতে কাজ করার কোনো সাহস পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় অবিলস্বে ঠিকাদারদের আপদকালীন কাজের বিপরীতে সম্পূর্ন টাকা পরিশোধদের দাবি জানান তিনি। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঠিকাদারদের আপদকালীন কাজের টাকা পরিশোধ করা না হলে পাউবোর সকল প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এসময় অন্যদের মধ্যে পাউবো ঠিকাদার সমিতির উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম রিপন, আরিফুল ইসলাম মাখন, খাজা তারেখ,  বজলুর রহমান, জিয়াউল করিম নিলু, আসাদুল্লাহ জাহাঙ্গীর, আলী আযম, সিদ্দিকুর রহমান তোতা, বাবলুর রহমান, এফতেখার মাহবুদ বাবুছাড়াও রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগা ও নাটোরের ঠিকাদাররা বিক্ষোভে অংশ নেন।
পরে বিক্ষোভের মুখে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সহিদুল আলম ঠিকাদারকে ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলে ঠিকাদাররা তাদের বিক্ষোভ স্থগিত করেন।   



শেয়ার করুন

0 facebook: