Friday, October 28, 2016

পার্বতীপুরে শীতকালীন শাকসব্জির সরবরাহ বৃদ্ধি ॥ দাম কমছে না

রাইসুল ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্য কার্তিকে শীতকালীন শাকসব্জির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছেনা কিছুতেই। পাইকারী ও খুচরা বাজারে সব ধরনের সব্জির দামে ব্যপক ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। 
শহরের নতুন বাজার, পুরাতন বাজার ও রেলবাজার ঘুরে আজ শুক্রবার দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। ফুল কপি ৬০টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০, পটল ৩২ থেকে ৩৫, বেগুন ৪০ থেকে ৬০, শসা ৪০, মূলা ২৫ থেকে ৩০, সিম ১০০, কাঁচা মরিচ ১০০, লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০, মিষ্টি কুমড়া ২৫টাকা কেজি, আলু দেশী ২৫ ও হল্যান্ড ২০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 
ভারতীয় পিয়াজ পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১৮টাকায়, দেশী ৩০টাকা দরে। সবুজ শাক, লাল শাক, পাটের শাক ও লাউ শাক অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দাবে বিক্রি হচ্ছে। দেশী ধনে পাতা বিক্রি হচ্ছে প্রতি শ’ (একশ’ গ্রাম) ৩০টাকায়। তবে নতুন বাজারের চেয়ে পুরাতন বাজার ও রেল বাজারে শাক সব্জির দাম কেজি প্রতি ৫টাকা বেশী দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। 
দেশী কাঁচা মরিচের সরবরাহ এখনোও অনেক কম, বিক্রি হয় ১২০টাকা কেজি। তবে ভারতীয় কাঁচা মরিচ অবৈধভাবে আসছে সীমান্ত পথে। প্রতি কেজির দাম ১০০টাকা করে। সূত্র জানায়, সীমান্তে যে কাঁচা মরিচ ৩৫ থেকে ৪০টাকা কেজি, সেই মরিচ ঘাটে ঘাটে বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠানকে হিস্যা বখরা দিয়ে এখানে এনে আড়তে কেনা বেচা হচ্ছে ৮০টাকায়। 
মাছের দাম বেশি যে কারনে 
এদিকে ইলিশ মাছের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাজারে অন্যসব মাছ বেশ চড়া দামে বৃক্রি হচ্ছে। মাছের আড়ৎদার ও পাইকাড়দের মধ্যে অলিখিত চুক্তিতে শক্তিশালী একটা সিন্ডিগেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিগেটের কারনে মাছের উৎপাদকেরা কমদামে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাইকাড়রা কমদামে মাছ কিনে দ্বিগুণ দাবে সাধারন ক্রেতাদের মধ্যে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র মতে পাইকাড়রা মাছের দাম নির্দ্ধারন করে। পরে সবাই একই দামে মাছ কিনে নেয়। এতে উৎপাদক মৎস্যচাষীরা ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জানা যায় ১কেজি ওজনের রুই মাছ ৩০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাতল মাছ বড় সাইজের বিক্রি হচ্ছে ৪০০টাকা কেজি। অন্যান্য মাছের বেলায়ও পাইকাড়রা সাধারন ক্রেতাদের গলা কেটে নিচ্ছে। মাছের উৎপাদক ব্যবসায়ী রাজু, সুলতান, তোফাজ্জল প্রমুখরা বলেন, সিন্ডিগেটের কারনে তারা অনেক সময় মাছের উৎপাদন খরচও উঠাতে পারছেন না। অন্যদিকে, পাইকাড়রা সব ধরনের মাছ দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে থাকে। মাছের আড়ৎদার মোঃ আমজাদ হোসেন সিন্ডিগেটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে একজনের ডাক দিয়ে সবাই মিলে একই দামে মাছ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। ক্রেতা ইউনুছ মিয়া, আলাউদ্দিন ও আবু তাহের বলেন, বাজার মনিটরিং না থাকায় সাধারন ক্রেতারা শাকসব্জি থেকে শুর করে  সব ধরনের পণ্য অধিক দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। 

শেয়ার করুন

0 facebook: